নিজস্ব , প্রতিবেদক বিডি-অনলাইন ম্যাগাজিন
ডটকম,Published Mon,Apr 26 , 2025, 3,47 AM
পারভেজের মা বলেন, আর যেন কার মা বুক খালি না হয়। আমি হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।
নিহত পারভেজ, এক ভাই এক বোনের মধ্যে পারভেজ ছিল বড়। ছোট বোন ঢাকার মাইলস্টোনে পড়াশোনা করে। বাবা জসিম উদ্দিন কুয়েত প্রবাসী। মা পারভীন আক্তার গৃহিণী। তাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার ফাই চান গ্রামে থাকে। পারভেজ কাফরুলে কাজিপাড়া আলহেরা হাসপাতালের পাশে একটি মেসে থাকত। প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল পারভেজ।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ডা. সাইফুল আলম বাদশা বলেন, নিহত পারভেজ ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী ছিল।
এ ঘটনায় শনিবার (১৯ এপ্রিল) শনিবার বিকেলে পাশের ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্সের দুই ছাত্রীকে নিয়ে হাসাহাসির জেরে প্রাইমএশিয়ার ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাথে পারভেজের বাগবিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে দুইপক্ষের মধ্যে মীমাংসা করা হয় বলে জানায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এরপর ক্যাম্পাস থেকে বের হলে পারভেজকে ৩০ থেকে ৪০ জন ঘিরে ধরে। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে গুরুতর আহত হন পারভেজ। পরে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরে রোববার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ নেওয়া হয় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে। সেখানে প্রথম জানাজা হয়। পরে রাত ১০টার দিকে গ্রামে তার লাশ দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় শনিবার (১৯ এপ্রিল) দিবাগত রাতে নিহতের মামাতো ভাই হুমায়ুন কবীর বাদী হয়ে বনানী থানায় হত্যা মামলা করেছেন। এতে প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বহিরাগতসহ আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঘটনার সূত্রপাত যেখান থেকে সেই ‘কথিত প্রেমিকা’ শনাক্ত হলেও মামলায় তার নাম নেই।
মামলার উল্লিখিত আসামিরা হলেন– মেহেরাজ ইসলাম (২০), আবু জহর গিফফারি পিয়াস (২০), মো. মাহাথির হাসান (২০), সোবহান নিয়াজ তুষার (২৪), হৃদয় মিয়াজি (২৩), রিফাত (২১), আলী (২১) ও ফাহিম (২২)। এ ছাড়া অজ্ঞাত পরিচয়ের আরও ২৫/৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রোববার গভীররাতে ওই তিনজনকে মহাখালীর ওয়ারলেস গেইটে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে বনানী থানা পুলিশ।
আদালতে বনানী থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই মোক্তার হোসেন জানান, এদিন আসামিদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার পরিদর্শক এ কে এম মঈন উদ্দিন। এ আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ওমর ফারুক ফারুকী।
অন্যদিকে আসামিদের তরফে আইনজীবী মাহবুবুর রহমান রিমান্ড আবেদনের বিরোধিতা করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক রিমান্ড আবেদন৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
’