বিনোদন ডেস্ক, বিডি-অনলাইনম ম্যাগাজিন ডটকম
এই রায়ের ব্যাপারে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সদস্যরা অসন্তুষ্টি। নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক তিনি বলেন, ” জায়েদ খান পর পর দুইবার সম্পাদক ছিলেন। এখন আবার সম্পাদক হওয়া জন্য বাড়াবাড়ি করছেন। সে এটা ছোট মনের মানুষ পরিচয় দিয়েছেন।”

নিপুণ আক্তার নন, জায়েদ খানই বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারের বৈধ অধিকারী বলে সিদ্ধান্ত দিল হাই কোর্ট।

জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিল এবং নিপুণকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে নির্বাচনী আপিল বোর্ড যে সিদ্ধান্ত দিয়েছিল, তা ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে বুধবার রায় দিয়েছে আদালত।

এ বিষয়ে জারি করা রুল ‘যথাযথ’ ঘোষণা করে বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাই কোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়।

এর ফলে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনে আপাতত আর বাধা থাকছে না জায়েদ খানের। তবে তাতে আইনি লড়াই শেষ হচ্ছে না, কারণ নিপুণ এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন।

জায়েদ খানের আইনজীবী আহসানুল করিম রায়ের পর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট, এর ফলে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনে আর কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই।”

অন্যদিকে নিপুণের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে আগামীকালই আপিল বিভাগে যাব।”

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয় গত ২৮ জানুয়ারি, পরদিন ঘোষিত ফলে সভাপতি পদে ইলিয়াস কাঞ্চনকে এবং সাধারণ সম্পাদক পদে জায়েদকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

ঘোষিত ফলে দেখা যায়, জায়েদ খান হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ১৩ ভোটে হারিয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন প্যানেলের নিপুণকে।

নির্বাচনের সময়ই টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ করেছিলেন নিপুণ। তাতে সাড়া না পেয়ে তিনি আপিল করেন।

তার আপিলে ভোট পুনর্গণনা হলেও তাতে ফল একই থাকলে নিপুণ সংবাদ সম্মেলন করে সাধারণ সম্পাদক পদে পুনঃভোটের দাবি তোলেন। সেখানে তিনি অর্থ দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ তুলে জায়েদ খানের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার হুমকিও দেন।
পরে নির্বাচনী আপিল বোর্ডে জায়েদ খান ও কার্যকরী পরিষদের সদস্য চুন্নুর পদ বাতিলের আবেদন করেন তিনি।

জায়েদের বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে ভোট কেনার ‘প্রমাণ পাওয়ার’ কথা জানিয়ে আপিল বোর্ড তার প্রার্থিতা বাতিলের ঘোষণা করে। শপথ নিয়ে সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারে বসেন নিপুণ।

ওই সময় আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্ত না মানার ঘোষণা দিয়ে জায়েদ সাংবাদিকদের বলেন, “এটা আইন বহির্ভূত, পৃথিবীতে এটা নজিরবিহীন ঘটনা, ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর মৃত আপিল বোর্ড রায় ঘোষণা করে!

“আমি আইনি নোটিস দেওয়ার পরও তারা যা করেছে। আমি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করব।”

জায়েদ খানের আবেদনের পর আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে দেয় হাই কোর্ট। একই সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে জায়েদ খানকে কোনো রকম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিল করে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আপিল বোর্ডের দেওয়া সিদ্ধান্ত কেন ‘বেআইনি’ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করে আদালত।

পরে হাই কোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করেন চিত্রনায়িকা নিপুণ।আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি তখন ওই পদে ‘স্থিতাবস্থা’ জারির আদেশ দেন। পরে আপিল বিভাগ তা বজায় রাখার নির্দেশ দেয়।

সেই সঙ্গে জায়েদ খানের রিট আবেদনে যে রুল জারি হয়েছিল, হাই কোর্টকে তা নিষ্পত্তি করতে বলে সর্বোচ্চ আদালত।

সেই রুলের ওপর শুনানি শেষে হাই কোর্ট বুধবার নির্বাচনী আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্তকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে রায় দিল।

By jahirul

Leave a Reply

Your email address will not be published.